ঘরে নবজাতকের যত্ন: এই ভুলগুলো কি আপনিও করছেন?



নবজাতকের আগমন একটি পরিবারে আনন্দ ও নতুন দায়িত্ব নিয়ে আসে। নবজাতক খুবই নাজুক ও সংবেদনশীল, তাই ঘরে তার সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিচর্যা, পরিচ্ছন্নতা ও ভালোবাসা নবজাতকের সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে।

১. পরিষ্কার ও নিরাপদ পরিবেশ
নবজাতকের জন্য ঘরের পরিবেশ পরিষ্কার ও নিরাপদ হওয়া জরুরি। শিশুর ঘর প্রতিদিন পরিষ্কার রাখুন এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। তবে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস বা ফ্যান শিশুর গায়ে লাগতে দেবেন না। শিশুকে ধরার আগে অবশ্যই হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

২. সঠিকভাবে দুধ খাওয়ানো
মায়ের দুধ নবজাতকের জন্য সর্বোত্তম খাবার। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো উচিত। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং পুষ্টির সব চাহিদা পূরণ করে। নির্দিষ্ট সময় পরপর শিশুকে দুধ খাওয়ান এবং দুধ খাওয়ানোর পর শিশুকে ঢেঁকুর তুলতে সাহায্য করুন। সঠিকভাবে দুধ খাওয়ানো জন্য আমাদের ইউটিউব চ্যানেল এর ভিডিও দেখুন https://youtu.be/jIpH1Xj3chs

৩. শিশুকে উষ্ণ রাখা
নবজাতক নিজে থেকে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই তাকে সব সময় উষ্ণ ও আরামদায়ক রাখতে হবে। আবহাওয়া অনুযায়ী নরম ও পরিষ্কার কাপড় পরান। অতিরিক্ত কাপড় পরানো ঠিক নয়—শিশুর ঘাড় বা পিঠ স্পর্শ করে তাপমাত্রা বুঝে নিন।

৪. গোসল ও ত্বকের যত্ন
নবজাতককে প্রতিদিন গোসল করানো জরুরি নয়। সপ্তাহে ২–৩ বার কুসুম গরম পানিতে গোসল করালেই যথেষ্ট। নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছুন। শিশুর ত্বক শুষ্ক হওয়া রোধে হালকা বেবি অয়েল বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।

৫. ঘুমের যত্ন
নবজাতক দিনে অনেক সময় ঘুমায়। শিশুকে চিত করে সমতল ও নরম বিছানায় শুইয়ে দিন। বিছানায় অতিরিক্ত বালিশ, খেলনা বা মোটা কম্বল রাখবেন না, এতে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে।

৬. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
শিশুর কাপড়, তোয়ালে ও বিছানা নিয়মিত ধুয়ে পরিষ্কার রাখুন। ডায়াপার বা কাপড় ভিজে গেলে দ্রুত পরিবর্তন করুন, যাতে ত্বকে র‍্যাশ না হয়। প্রয়োজনে ডায়াপার র‍্যাশ ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।

৭. স্বাস্থ্য ও টিকা
নবজাতকের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সময়মতো টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর জ্বর, শ্বাসকষ্ট, দুধ না খাওয়া বা অস্বাভাবিক কান্না দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৮. ভালোবাসা ও মানসিক যত্ন
নবজাতকের যত্নে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক যত্নও জরুরি। শিশুকে কোলে নেওয়া, কথা বলা, আদর করা তার মানসিক বিকাশে সহায়তা করে এবং মা–শিশুর বন্ধন দৃঢ় করে।

উপসংহার
ঘরে নবজাতকের যত্ন ধৈর্য, সময় ও ভালোবাসার বিষয়। সঠিক পরিচর্যা ও সচেতনতার মাধ্যমে নবজাতককে সুস্থ, নিরাপদ ও আনন্দময়ভাবে বড় করে তোলা সম্ভব।

0 Comments

Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post