৯০% মা জানেন না নবজাতককে দুধ খাওয়ানোর সঠিক পদ্ধতি.....

 



নবজাতককে ঠিকমতো দুধ খাওয়ানোর পদ্ধতি: এই বিষয়গুলো না জানলে বড় ভুল হতে পারে!

নবজাতককে দুধ খাওয়ানো সহজ মনে হলেও বাস্তবে এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল হয়ে থাকে। অনেক মা ভাবেন—শিশু বুক ধরলেই সে ঠিকমতো দুধ পাচ্ছে। কিন্তু সত্যি বলতে, দুধ খাওয়ানোর সঠিক পদ্ধতি না জানলে নবজাতক পর্যাপ্ত দুধ পায় না, যা তার বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, নবজাতককে ঠিকমতো দুধ খাওয়ানোর সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো—যেগুলো অনেকেই শুরুতে জানেন না।


নবজাতক কি সত্যিই ঠিকমতো দুধ খাচ্ছে?

এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
শুধু মুখে স্তন নেওয়া মানেই দুধ খাওয়া নয়। নবজাতক যদি—

  • চুষতে চুষতে গিলে খাওয়ার শব্দ করে

  • দুধ খাওয়ার পর শান্ত থাকে

  • দিনে ৬–৮ বার প্রস্রাব করে
    তাহলে বুঝবেন সে ঠিকমতো দুধ পাচ্ছে।

এই লক্ষণগুলো না থাকলে সতর্ক হওয়া জরুরি।


দুধ খাওয়ানোর সময় সবচেয়ে বড় ভুলটি কী?

অনেক মা নবজাতককে ভুল পজিশনে দুধ খাওয়ান। এতে শিশু ঠিকভাবে স্তন ধরতে পারে না এবং দুধ কম পায়।

👉 সঠিক পদ্ধতিতে শিশুর—

  • মুখ পুরোপুরি খোলা থাকবে

  • শুধু নিপল নয়, নিপলের চারপাশের কালো অংশ মুখে নিতে হবে

  • শিশুর মাথা ও শরীর একই সরল রেখায় থাকবে

এই ছোট বিষয়গুলোই দুধ খাওয়ানোর সফলতা নির্ধারণ করে।


নবজাতক দুধ খেতে না চাইলে আসল কারণ কী?

নবজাতক দুধ না খাওয়ার পেছনে অনেক সময় বড় কোনো সমস্যা নয়, বরং—

  • ভুলভাবে কোলে নেওয়া

  • মা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় থাকা

  • শিশুর ঢেঁকুর না তোলা

  • অতিরিক্ত ঘুম

এই কারণগুলো দুধ খাওয়াতে বাধা সৃষ্টি করে।


কত ঘন ঘন দুধ খাওয়ানো উচিত?

অনেকে মনে করেন নির্দিষ্ট সময় মেনে দুধ খাওয়ানো জরুরি। কিন্তু বাস্তবে—
👉 নবজাতকের চাহিদা অনুযায়ী দুধ খাওয়ানোই সবচেয়ে সঠিক পদ্ধতি।

সাধারণত নবজাতক দিনে ৮–১২ বার দুধ খেতে পারে। কান্না, মুখে আঙুল দেওয়া বা অস্থির হওয়া—এসব দুধ চাওয়ার ইঙ্গিত।


দুধ খাওয়ানোর পর যে কাজটি না করলে সমস্যা হতে পারে

দুধ খাওয়ানোর পর ঢেঁকুর তোলানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঢেঁকুর না তুললে—

  • বমি হতে পারে

  • পেট ফাঁপা

  • শিশুর অস্বস্তি বাড়ে

শিশুকে কাঁধে তুলে বা কোলে বসিয়ে আলতো করে পিঠে চাপড় দিলে সহজেই ঢেঁকুর আসে।


শুধু মায়ের দুধই কি যথেষ্ট?

প্রথম ৬ মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধই যথেষ্ট। এতে রয়েছে—

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

  • পরিপূর্ণ পুষ্টি

  • শিশুর মানসিক নিরাপত্তা

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো খাবার বা পানি দেওয়া উচিত নয়।


কখন অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?

যদি নবজাতক—

  • দুধ খেতে না চায়

  • ওজন বাড়ছে না

  • খুব বেশি ঘুমিয়ে থাকে

  • প্রস্রাব কম করে

তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।


উপসংহার

নবজাতককে ঠিকমতো দুধ খাওয়ানো শুধু একটি কাজ নয়, বরং এটি শিশুর ভবিষ্যৎ সুস্থতার ভিত্তি। সঠিক পদ্ধতি জানলে দুধ খাওয়ানো সহজ হয়, শিশুও থাকে সুস্থ ও শান্ত।

👉 মনে রাখবেন—
সঠিক দুধ খাওয়ানো মানেই সুস্থ নবজাতক।

0 Comments

Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post