একটি শিশুর মাথা যদি অস্বাভাবিকভাবে বিশাল হয়,
পুরো শরীর জুড়ে যদি কালো হয়ে কুঁচকে যাওয়া চামড়া থাকে,
পিঠে যদি রক্তক্ষরিত টিউমার জন্ম নেয়,
আর চোখের আলো যদি ১৭ মাসেই নিভে আসে—
তাহলে কি তাকে শিশু বলা যায়?
নাকি সে জন্মের পর থেকেই কেবল একজন যোদ্ধা?
হুমায়রা—মাত্র ১৭ মাস বয়সী একটি শিশুকন্যা।
জন্মের পর থেকেই তার জীবন মানেই অসহনীয় যন্ত্রণা, দুরারোগ্য রোগ আর প্রতিদিন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা।
যে বাস্তবতা একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকেও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়, সেই বাস্তবতার ভারই পড়েছে এই ছোট্ট শরীরটার উপর।
কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপারটা এখানে রোগ নয়।
সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো—
হুমায়রার জন্মদাতা বাবা এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারেনি।
মেয়ের অসুস্থ শরীর, চিকিৎসার খরচ, আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা—সবকিছু মিলিয়ে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিছু হটার।
সে চলে গেছে।
ফেলে গেছে হুমায়রা আর তার মাকে—চরম অসহায়ত্বের মধ্যে।
গত এক বছর ধরে চিকিৎসা তো দূরের কথা,
হুমায়রা বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুযোগটুকুও পায়নি।
দারিদ্র্য, অবহেলা আর সময়ের নিষ্ঠুরতায়
তার রোগ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো শরীরে।
আজ হুমায়রা দাঁড়িয়ে আছে জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে।
সময়টা এতটাই দেরি হয়ে গেছে যে—
সে আদৌ চিকিৎসা শুরু করতে পারবে কিনা,
সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ঠিক এই অন্ধকার মুহূর্তেই, শেষ ভরসা হিসেবে হুমায়রার মা জানতে পারেন
অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মজিবুর রহমান
এবং তার প্রতিষ্ঠিত
ডাঃ মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশন-এর কথা।
কাঁদতে কাঁদতে ছুটে আসেন চেম্বারে।
মেয়ের শরীরের অবস্থা, আর জীবনের বিশ্বাসঘাতকতার গল্প শুনে
অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মজিবুর রহমান এক মুহূর্তও দেরি করেননি।
তিনি শুধু একটি কথাই বলেছেন—
“হুমায়রার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে ডাঃ মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশন।”
হুমায়রার জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা করা হবে
বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালেই।
এখন আর অর্থের হিসাব নেই।
এখন আর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
এখন আমাদের হাতে আছে শুধু—
আপনাদের ভালোবাসা,
আপনাদের দোয়া,
আর এই গল্পটা ছড়িয়ে দেওয়ার মানবিক দায়িত্ব।
কারণ সময়টা ভয়ংকরভাবে কম।
এতটাই কম যে, আজ নীরব থাকলে
হুমায়রার বেঁচে থাকার গল্পটা
হয়তো আর কখনো লেখা হবে না।
একটি শেয়ার—একটি দোয়া—একটি মানবিক সিদ্ধান্ত
হয়তো আজ হুমায়রার জীবন বাঁচাতে পারে।
إرسال تعليق