নবজাতকের জন্ডিস: কারণ, লক্ষণ ও করণীয়



নবজাতকের জন্ডিস একটি খুবই সাধারণ শারীরিক অবস্থা, যা বেশিরভাগ শিশুর ক্ষেত্রেই জন্মের পর প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে দেখা যায়। এতে শিশুর ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদাভ হয়ে ওঠে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক ও সাময়িক হলেও, কিছু পরিস্থিতিতে জন্ডিস গুরুতর হতে পারে। তাই জন্ডিস সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।


নবজাতকের জন্ডিসের কারণ

নবজাতকের শরীরে জন্মের পর লোহিত রক্তকণিকা ভাঙার হার বেশি থাকে। এই প্রক্রিয়ায় বিলিরুবিন নামক একটি হলুদ রঙের পদার্থ তৈরি হয়। যেহেতু নবজাতকের লিভার (যকৃত) পুরোপুরি পরিপক্ব নয়, তাই অতিরিক্ত বিলিরুবিন সহজে শরীর থেকে বের হতে পারে না। ফলে রক্তে বিলিরুবিন জমে গিয়ে জন্ডিস দেখা দেয়।

জন্ডিসের অন্যান্য কারণগুলো হলো—

  • অপরিপক্ব বা কম ওজনের শিশু

  • সময়মতো পর্যাপ্ত দুধ না খাওয়া

  • মায়ের ও শিশুর রক্তের গ্রুপের অসামঞ্জস্য

  • সংক্রমণ

  • জন্মের সময় আঘাত বা রক্তক্ষরণ

  • বংশগত কিছু রোগ


নবজাতকের জন্ডিসের লক্ষণ

নবজাতকের জন্ডিসের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—

  • ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (প্রথমে মুখে, পরে বুকে ও শরীরে)

  • চোখের সাদা অংশ হলুদ দেখা যাওয়া

  • অতিরিক্ত ঘুমিয়ে থাকা বা অলসতা

  • দুধ খাওয়ার পরিমাণ কমে যাওয়া

  • কান্না দুর্বল হওয়া

  • গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি বা শ্বাসকষ্ট

যদি এসব লক্ষণ দ্রুত বেড়ে যায়, তাহলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।


নবজাতকের জন্ডিসে করণীয়

১. নিয়মিত দুধ খাওয়ানো
মায়ের দুধ নবজাতকের জন্য সবচেয়ে ভালো। ঘন ঘন দুধ খাওয়ালে বিলিরুবিন প্রস্রাব ও পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে বের হতে সাহায্য করে।

২. শিশুকে পর্যবেক্ষণে রাখা
প্রতিদিন শিশুর ত্বক ও চোখের রঙ লক্ষ্য করুন। হলুদ ভাব বাড়ছে কিনা তা খেয়াল রাখুন।

৩. ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া
জন্ডিস বেশি হলে রক্ত পরীক্ষা করে বিলিরুবিনের মাত্রা নির্ণয় করা হয়। প্রয়োজনে চিকিৎসক ফোটোথেরাপি (নীল আলো চিকিৎসা) দিতে পারেন।

৪. নিজে থেকে চিকিৎসা না করা
রোদে দেওয়া বা ঘরোয়া কোনো পদ্ধতি ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া করা উচিত নয়। এতে শিশুর ক্ষতি হতে পারে।

৫. গুরুতর লক্ষণে দ্রুত ব্যবস্থা
শিশু যদি দুধ না খায়, খুব বেশি হলুদ হয়ে যায়, বা অস্বাভাবিক আচরণ করে—তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।


উপসংহার

নবজাতকের জন্ডিস বেশিরভাগ সময়েই স্বাভাবিক ও সাময়িক সমস্যা হলেও অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো লক্ষণ শনাক্ত করা এবং সঠিক চিকিৎসা নেওয়া শিশুর সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে নবজাতকের জন্ডিস সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

0 تعليقات

إرسال تعليق

Post a Comment (0)

أحدث أقدم